Village Business Idea

Village Business Idea : স্বাদে গন্ধে সু-স্বাস্থ্য জুড়ি মেলা ভার এটির

সারা বিশ্বে আমিষ ভোজী (Village Business Idea) মানুষের সংখ্যা যে নিরামিষ ভোজীর চেয়ে ঢের গুণ বেশি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর আমিষ ভোজী মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা মাছ, ডিম, মটন ইত্যাদি ততটা খেতে না পছন্দ করলেও, মুরগির মাংস খেতে বেশ পছন্দ করেন। তবে আমাদের দেশে পোল্ট্রি ও ব্রয়লার মুরগির মাংস তো হামেশাই খেয়ে থাকেন প্রায় সকলে। কিন্তু কতজন কড়কনাথ মুরগি দেখেছেন বা খেয়েছেন বলুন তো?

তবে জেনে রাখা ভালো ক্রমেই দেশের নানা প্রান্তের মতো আমাদের রাজ্যেও এই মুরগির চাষের চাহিদা বাড়ছে। অর্থাৎ যেমন চাহিদা বাড়ছে মুরগিটির ডিমের, তার চেয়েও বেশি চাহিদা এর মাংসের। তাই আপনিও যদি ভেবে থাকেন এই মুরগির ফার্ম (Village Business Idea) খুলবেন অর্থাৎ ব্যবসা খুলবেন, তাহলে খুব সহজেই স্বল্প খরচে তা করতে পারেন। আসুন তাহলে আরও বিস্তারে জেনে নেওয়া যাক এই কড়কনাথ মুরগি এবং তার ব্যবসা সম্পর্কে।

কড়কনাথ আসলে কোথাকার মুরগি?
ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম এই প্রজাতির মুরগি (Village Business Idea) পাওয়া যায়। তবে সেখানার নাম অনুযায়ী এর নাম ‘অ্যায়াম কেমানি’। ভারতে এই প্রজাতির মুরগির আগমন ঘটে মধ্যপ্রদেশের আদিবাসীদের হাত ধরে।

তারা ইন্দোনেশিয়া থেকে এই মুরগি নিয়ে এসে একটি নতুন হাইব্রিড প্রজাতির (Village Business Idea) সৃষ্টি করে দেশের মধ্যে প্রথম চাষ শুরু করেন। এরপর এই হাইব্রিড মুরগির নাম করা হয় ‘কড়কনাথ মুরগি’ নামে। প্রসঙ্গত, এই মুরগির সমস্ত অংশই অর্থাৎ মাংস, হার, চামড়া সবই কালো কুচকুচে, এমনকি ডিমও কালো, তাই কড়কনাথ বা কালিমাসি মুরগি গ্রাম বাংলায় কালো মুরগি বা ব্ল্যাক চিকেন নামেও বহুল পরিচিত।

এটি কোথায় কোথায় পাওয়া যায়?
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়া জেলাতে প্রথম এটির উৎপাদন (Village Business Idea) শুরু হলেও এখন এটি তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রে এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও পাওয়া যায়। একদা পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মধ্যে রসগোল্লার আসল আবিস্কারক কে? তা নিয়ে যেমন বিতর্ক বেঁধেছিল, তেমনই কড়কনাথকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের মধ্যে লড়াই হয়েছিল।

তবে ভারতের একটি বিখ্যাত সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কড়কনাথের ভৌগোলিক পরিচয় অর্থাৎ GI ট্যাগটি রয়েছে মধ্যপ্রদেশের কাছেই। তবে এই মুরগির পেটেন্ট পেতে এখনও মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের মধ্যে লড়াই হয়।

কড়কনাথের পুষ্টিগুণের বিশেষত্ব-
১৯৭৮ সালে মধ্যপ্রদেশ এই প্রজাতির মুরগির জন্য প্রথম মুরগি প্রতিপালন (Village Business Idea) কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। কড়কনাথ মোরগ ব্যবসায়ীদের জন্য ‘কালো সোনা’ হয়ে উঠেছে। এই ব্যবসা থেকে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন ব্যবসায়ীরা।

১) প্রোটিন- যেখানে সাধারণ পোল্ট্রি বা ব্রয়লার মুরগিতে প্রোটিন থাকে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ, সেখানে কড়কনাথে প্রোটিন থাকে ২৫ থেকে ২৭ শতাংশ।
২) চর্বি- সাধারণ পোল্ট্রি বা ব্রয়লার মুরগিতে চর্বি থাকে ১৩ থেকে ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে কড়কনাথে চর্বি থাকে ০.৭৩ থেকে ১.০৩ শতাংশ।

৩) কোলেস্টেরল- সাধারণ পোল্ট্রি বা ব্রয়লার মুরগিতে কোলেস্টেরল থাকে ২১৮.১২ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে কড়কনাথে (Village Business Idea) কোলেস্টেরল থাকে ১৮৪.৭৫ মিলিগ্রাম।
৪) লিনোলিক অ্যাসিড — অন্যদিকে সাধারণ পোল্ট্রি বা ব্রয়লার মুরগিতে লিনোলিক অ্যাসিড থাকে মাত্র ২১ শতাংশ এবং কড়কনাথে লিনোলিক অ্যাসিড থাকে ২৪ শতাংশ।

৫) এছাড়া এতে থাকে ১৮ ধরণের প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড।
৬) আরো থাকে ভিটামিন বি -1, বি -2, বি -6, বি -12, সি এবং ই।
৭) আজকাল স্নায়ু রোগ নিরাময়ের ওষুধ হিসাবেও এটি ব্যবহৃত হয়। উল্লেখ্য, এর রক্ত ​​দ্বারা অনেক রোগ নিরাময় হয়।
৮) এই মুরগির (Village Business Idea) আরো গুণাগুণ আছে যেমন, এর মাংস বা ডিম খেলে দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়, হার্টকে সুস্থ রাখে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

৯) এটি রক্তাল্পতার ঝুঁকি রোধ করে।
১০) হাড়কে শক্তিশালী করে। বিশেষত, মহিলাদের ক্ষেত্রে অস্টিওপোরোসিস ও অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
১১) ত্বকে পুষ্টি জোগানোর সঙ্গে সঙ্গে ঋতুস্রাবের সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করে।
১২) মাথাব্যথা ও হাঁপানি রোগ প্রতিরোধেও সহায়তা করে।

কড়কনাথের দাম কেমন?
ভারতীয় বাজারে ৫০ টাকায় কড়কনাথের একটি ডিম বিক্রি হয়। অন্যদিকে একটি মোরগ বা ১ কেজির দাম ৫০০ টাকা নির্ধারিত আছে। আর এই প্রজাতির (Village Business Idea) মুরগির ১ দিনের একটি ছানার মূল্য প্রায় ৭০ টাকা। তবে খুচরো বাজার থেকে এই মুরগি কিনলে, তার দাম পড়বে ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা। অন্যদিকে একটি ডিমটি পাওয়া যাবে ২৫ টাকায়।

কড়কনাথের ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন?
এতক্ষণ ধরে এত কথা বলার পরে এবারে আসা যাক আসল কথায় অর্থাৎ কড়কনাথের ব্যবসা (Village Business Idea) কিভাবে শুরু করা যায় সেই কথায়। আপনি যদি এই মুরগির ব্যবসা শুরু করতে চান তবে অবশ্যই কিছু জিনিস মেনে চলতে হবে।

১) এক্ষেত্রে যদি ১০০ টি মুরগি নিয়ে শুরু করা হয়, তাহলে ১৫০ বর্গফুট জায়গা লাগবে। অর্থাৎ যদি ১,০০০ টি মুরগি থাকে বা রাখার ইচ্ছে হয় তাহলে ১,৫০০বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন।
২) প্রসঙ্গত, ফার্ম গ্রাম বা শহরের বাইরে, মূল সড়কের থেকে দূরে হলে ভালো হয়। তবে অবশ্যই সেখানে জল বা বিদ্যুতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৩) সম্ভব হলে ফার্মটি একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় করা উচিত যাতে সেখানে জলের জমার সম্ভবনা না থাকে।
৪) এই প্রজাতির মুরগি প্রতিপালন (Village Business Idea) করতে হলে, অন্ধকারে এবং রাতে মুরগি এবং ছানার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া দরকার।
৫) তার সাথে সাথে ফার্মে প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা হালকা আলো এবং পর্যাপ্ত বায়ুর দরকার হয়।

৬) একের বেশি ফার্ম হলে ফার্মগুলি (Village Business Idea) একে অপরের কাছাকাছি রাখা উচিত নয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে একই জাতের ছানা সবসময় একটি শেডে থাকে।
৭) অবশ্যই মনে করে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জলের পাত্রটি পরিষ্কার করতে হবে।

আরও পড়ুন, আমূল বদলে যাচ্ছে উচ্চমাধ্যমিকের নিয়ম

কাদের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে?
কড়কনাথ মুরগির পোল্ট্রি ফার্ম (Village Business Idea) খোলার জন্য ‘ইন্ডিয়া মার্টে’ বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আর যদি এই মুরগির ব্যবসা আরও বড় আকারে করতে চাইলে এমন পোল্ট্রি ফার্মের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে যারা ইতিমধ্যে এই র ব্যবসা করে ভালো আয় করছেন। অর্থাৎ তাদের থেকে ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিতে হবে।

আরও পড়ুন, রাজ্যে নিয়োগ হতে চলেছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আবেদন করা যাবে মাধ্যমিক পাশে

ব্যবসা ও অর্থনীতি সংক্রান্ত অন্যান্য খবরের আপডেট পেতে ফলো করতে ভুলবেন না এই ওয়েবসাইটটি।
Written by Manisha Basak.

আরও পড়ুন, বাড়িতে বসে অনলাইনে ব্যবসা করার চমৎকার একটি আইডিয়া, শুরু করলেই বদলে যাবে জীবন

3 thoughts on “Village Business Idea : গ্রামের জন্য দারুণ উপযোগী একটি ব্যবসা, এটি করে সফল হয়েছেন অনেকেই, New Business Idea”

Leave a Reply

Your email address will not be published.